মসজিদের স্থান পবিত্র ও নাপাকি থেকে মুক্ত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামী ফিকহের নীতিমালা অনুযায়ী, মসজিদের স্থান ও এর আশেপাশের এলাকা যেকোনো ধরনের নাজাসাহ (অপবিত্রতা) থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র হওয়া আবশ্যক। প্রশ্নে উল্লিখিত পরিস্থিতিতে, যদি টয়লেটের ট্যাংকির উপর কংক্রিট বা মাটি দিয়ে ঢালাই করা হয় এবং তার উপর মসজিদের অংশ নির্মিত হয়, তবে নিম্নোক্ত দিকগুলো বিবেচনা করতে হবে:
### ১. **নাজাসাহ থেকে সুরক্ষা**:
- টয়লেটের ট্যাংক থেকে কোনোভাবে নাজাসাহ (মল-মূত্র) মসজিদের এলাকায় প্রবেশ করলে তা জায়েজ হবে না। কংক্রিট বা মাটির পুরু স্তর দ্বারা ট্যাংকটি সম্পূর্ণভাবে সিল করা হলে এবং নাজাসাহ উপরে প্রবেশের কোনো সম্ভাবনা না থাকলে এটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে যে কোনো অবস্থাতেই নাজাসাহ মসজিদের স্থানে ছড়াবে না।
### ২. **মসজিদের মর্যাদা**:
- মসজিদের স্থান নির্মাণে শুধু পবিত্রতাই যথেষ্ট নয়, বরং এর মর্যাদা ও সম্মান রক্ষার দিকেও খেয়াল রাখতে হয়। টয়লেটের মতো অপবিত্র স্থানের ওপর মসজিদের অংশ নির্মাণ করা ইসলামী আদব ও সম্মানের পরিপন্থী হতে পারে, এমনকি যদি নাজাসাহ সুরক্ষিত থাকে তবুও। এ ধরনের নির্মাণ সাধারণত পরিহার করা উচিত।
### ৩. **ফিকহি দৃষ্টিভঙ্গি**:
- ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মাজহাব মতে, মসজিদের নিচে বা সংলগ্ন স্থানে টয়লেট থাকা মাকরূহে তাহরিমি (নিষিদ্ধের কাছাকাছি) বলে গণ্য হয়, যদি তা মসজিদের পবিত্রতা ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে। অন্যান্য মাজহাবেও অনুরূপ সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে।
- কিছু ফকীহ বলেন: যদি টয়লেট ও মসজিদের মধ্যে যথেষ্ট মোটা ও অভেদ্য বাধা (যেমন: কংক্রিটের পুরু স্তর) থাকে এবং নাজাসাহ সংক্রমণের কোনো আশঙ্কা না থাকে, তবে জায়েজ হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ আলেমের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
### ৪. **সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব**:
- মুসল্লিদের মনে এ ধরনের নির্মাণের প্রতি অনীহা বা অস্বস্তি তৈরি হতে পারে, যা মসজিদের পবিত্র পরিবেশকে বিঘ্নিত করতে পারে। তাই সামাজিক স্বস্তি ও ঐক্যমতের দিকেও লক্ষ্য রাখা উচিত।
### **সিদ্ধান্ত**:
- **যদি টয়লেটের ট্যাংক সম্পূর্ণভাবে সিল করা হয়** এবং নাজাসাহ মসজিদে প্রবেশের কোনো সম্ভাবনা না থাকে, তবে ফিকহি বিধান অনুযায়ী জায়েজ হতে পারে। তবে এটি কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে এবং নির্মাণ কাজে বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধান প্রয়োজন।
- **কিন্তু উত্তম পন্থা হলো** মসজিদের স্থানকে টয়লেট বা অপবিত্র স্থান থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখা, যাতে কোনো প্রকারের সন্দেহ বা ঝুঁকি না থাকে। মসজিদের মর্যাদা রক্ষার্থে এ ধরনের নির্মাণ পরিহার করাই শ্রেয়।
**পরামর্শ**: স্থানীয় কোনো যোগ্য আলেম বা ইসলামিক নির্মাণ বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিন।

