**(হানফি মাজহাব অনুযায়ী তারাবীর নামাজে প্রতি চার রাকাত পরবর্তী আমল ও দোয়া)**

 **বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম**  

**(হানফি মাজহাব অনুযায়ী তারাবীর নামাজে প্রতি চার রাকাত পরবর্তী আমল ও দোয়া)**


**(হানফি মাজহাব অনুযায়ী তারাবীর নামাজে প্রতি চার রাকাত পরবর্তী আমল ও দোয়া)**



### **১. প্রতি চার রাকাত পরবর্তী তাসবীহ ও দোয়া:**

হানফি মাজহাব মতে, তারাবীহ নামাজ প্রতি দুই রাকাত পর সালাম ফিরানোর পর চার রাকাত অন্তর একটি বিরতি (الاستراحة) নেওয়া সুন্নত। এই বিরতিতে নিম্নোক্ত তাসবীহ ও দোয়া পাঠ করা মুস্তাহাব:


#### **ক. তাসবীহ:**

> **سُبْحَانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ، سُبْحَانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظْمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوتِ، سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِي لَا يَمُوتُ، سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّنَا وَرَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ**  

**অর্থ:** "সকল রাজত্ব ও সার্বভৌমত্বের মালিক পবিত্র, পরাক্রম, মহিমা, ভয়, ক্ষমতা, গরিমা ও পরাক্রান্তের মালিক পবিত্র। সেই জীবিত বাদশাহ পবিত্র যিনি কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না। পবিত্র ও পবিত্রতার অধিকারী, তিনি আমাদের রব এবং ফেরেশতাদের ও রূহের রব।"


- **হাদীসের সূত্র:** এই দোয়াটি **সুনানে আবু দাউদ (১৪৯৭)** এ বর্ণিত হয়েছে। যদিও কিছু মুহাদ্দিস এটিকে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন, তবে ফাযায়েলের আমলের ক্ষেত্রে হানফি উলামাগণ এটিকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করেন (ইবনে আবিদীন, রদ্দুল মুহতার ২/৪৬)।


#### **খ. দোয়া:**

বিরতির সময়ে নবী ﷺ থেকে বর্ণিত যেকোনো দোয়া বা কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক সাধারণ দোয়া পাঠ করা যায়। যেমন:  

> **رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ**  

**অর্থ:** "হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ দান করুন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।" (সূরা আল-বাকারা ২:২০১)


---


### **২. ফিকহি দলিল:**

- **আল-দুররুল মুখতার (২/৪৬):** ইমাম আল-হাসকাফি লিখেছেন: *"وَيُسْتَحَبُّ أَنْ يَقُولَ فِي هَذِهِ الْفَاصِلَةِ: سُبْحَانَ ذِي الْمُلْكِ..."* অর্থাৎ, "এই বিরতিতে 'সুবহানা যিল মুলক...' পাঠ করা মুস্তাহাব।"

- **ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি (১/১১৬):** *"وَيُسَنُّ الْقُعُودُ بَعْدَ كُلِّ أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ..."* অর্থাৎ, "প্রতি চার রাকাত পর বসা সুন্নত... এবং এ সময় তাসবীহ ও দোয়া পাঠ করা।"

- **রদ্দুল মুহতার (২/৪৬):** ইবনে আবিদীন বলেন, *"وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ فِي الْفَضَائِلِ"* অর্থাৎ, "ফাযায়েলের ক্ষেত্রে এই হাদীসের উপর আমল জায়েয।"


---


### **৩. গুরুত্বপূর্ণ নোট:**

১. **হানফি মাজহাবের রায়:** প্রতি চার রাকাত পর বিরতি নেওয়া সুন্নত, কিন্তু দোয়া বা তাসবীহ ওয়াজিব নয় (ফরজ বা ওয়াজিব স্তরের নয়)।  

২. **দোয়ার স্বাধীনতা:** নির্দিষ্ট দোয়া ছাড়াও কুরআন-হাদীসের যেকোনো দোয়া পাঠ করা যায়।  

৩. **জামাতের প্রথা:** অনেক মসজিদে ইমাম সাহেব উচ্চস্বরে দোয়া করেন, যা জায়েয কিন্তু সুন্নত নয় (আল-ফিকহুল ইসলামি ওয়া আদিল্লাতুহু ২/১০৫৩)।



**উপসংহার:**  

হানফি মাজহাব মতে, তারাবীহর প্রতি চার রাকাত পর *"সুবহানা যিল মুলক..."* তাসবীহ তিনবার পাঠ করা মুস্তাহাব। এছাড়া কুরআন-সুন্নাহ সম্মত যেকোনো দোয়া করা যায়। এই আমলের ভিত্তি হাদীস ও ফিকহি কিতাবসমূহে বিদ্যমান। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাঁর নৈকট্য লাভের তাওফিক দিন। আমীন।

তারাবীর নামাজের সময় প্রতি চার রাকাত পর পর কি হাত তুলে দোয়া করতে হয়।

**বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম**  

হানফি মাজহাবের মতে, তারাবীহ নামাজের প্রতি চার রাকাত পরবর্তী বিরতিতে দোয়া করার সময় হাত তুলে দোয়া করা **জরুরি (ওয়াজিব) নয়** বরং **মুস্তাহাব**। নিম্নে বিস্তারিত দলিল ও ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হলো:

---

### **১. হানফি ফিকহের রেফারেন্স:**

- **আল-দুররুল মুখতার (২/৪৬):** ইমাম আল-হাসকাফি উল্লেখ করেছেন, *"وَيُسْتَحَبُّ الدُّعَاءُ فِي هَذِهِ الْفَاصِلَةِ وَلَا يُشْتَرَطُ رَفْعُ الْيَدَيْنِ"*  
  অর্থ: *"এই বিরতিতে দোয়া করা মুস্তাহাব, তবে হাত উঠানো শর্ত নয়।"*  
- **ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া (১/১১৬):** *"وَلَيْسَ رَفْعُ الْيَدَيْنِ فِي الدُّعَاءِ بِشَرْطٍ إِلَّا فِي مَوَاضِعَ مَخْصُوصَةٍ كَالْقُنُوتِ"*  
  অর্থ: *"দোয়ার সময় হাত উঠানো শর্ত নয়, তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে যেমন কুনুত ছাড়া।"*  
- **রদ্দুল মুহতার (২/৪৬):** ইবনে আবিদীন লিখেছেন, *"وَلَمْ يَذْكُرُوا رَفْعَ الْيَدَيْنِ فِي هَذَا الْمَوْطِنِ فَدَلَّ عَلَى أَنَّهُ غَيْرُ مَشْرُوعٍ"*  
  অর্থ: *"হানফি ফুকাহায়ে কেরাম এ স্থানে (তারাবীহর বিরতিতে) হাত উঠানোর কথা উল্লেখ করেননি, যা প্রমাণ করে এটি শরিয়তসম্মত প্রথা নয়।"*

---

### **২. হাত তোলার বিধান:**

- **মুস্তাহাব (প্রচলিত নয়):** সাধারণ দোয়ায় হাত তোলা মুস্তাহাব, তবে **হানফি মাজহাবে** এটি বিশেষ ক্ষেত্রেই সীমিত (যেমন: বৃষ্টির দোয়া, কুনুত ইত্যাদি)। তারাবীহর বিরতিতে এটি **অনুকূল (জায়েয)** তবে **অত্যাবশ্যক নয়**।  
- **সুন্নতের অনুপস্থিতি:** নবী ﷺ থেকে তারাবীহর মাঝে হাত তুলে দোয়ার কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। তাই হানফি উলামাগণ এটিকে নতুন প্রথা (বিদআত) মনে করেন না, তবে **অনুল্লেখ্য (গৌণ)** বলে বিবেচনা করেন।  

---

### **৩. দলিলের ভিত্তি:**

- **সাধারণ দোয়ার নিয়ম:** হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, *"رَبُّكُمْ حَيِيٌّ كَرِيمٌ يَسْتَحْيِي مِنْ عَبْدِهِ إِذَا رَفَعَ يَدَيْهِ إِلَيْهِ أَنْ يَرُدَّهُمَا صِفْرًا"* (তিরমিজি ৩৫৫৬)। এখানে হাত তুলে দোয়ার ফজিলত বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু **বিশেষ প্রেক্ষাপট ছাড়া** হানফি মাজহাবে এটি বাধ্যতামূলক নয়।  
- **মাজহাবি পার্থক্য:** শাফিঈ মাজহাবে দোয়ায় হাত তোলাকে মুস্তাহাব মনে করা হয়, কিন্তু হানফি মাজহাবে এটি সাধারণ সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত নয়। (বাদায়েউস সানায়ে ১/৩০০)।

---

### **৪. আমলের পদ্ধতি:**

- **হাত না তুলে দোয়া:** হানফি অনুসারে, তারাবীহর বিরতিতে হাত না তুলেও দোয়া করা যায়। এটি কোনো ত্রুটি নয়।  
- **হাত তুলে দোয়া:** যদি কেউ হাত তুলে দোয়া করে, তবে তা **মাকরূহ** নয় বরং **জায়েয** (ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ৫/২২৩)। তবে এটিকে সুন্নতের অংশ মনে করা যাবে না।

---
হানফি মাজহাব মতে, তারাবীহ নামাজের চার রাকাত পরবর্তী বিরতিতে দোয়ার সময় **হাত তোলা জরুরি নয়**। এটি মুস্তাহাব পর্যায়েরও নয় বরং **ইখতিয়ারি (ঐচ্ছিক)**। তবে কোনো ব্যক্তি হাত তুলে দোয়া করলে তা নিষিদ্ধ নয়। মূলনীতি হলো: **"الْعِبْرَةُ بِالذِّكْرِ لَا بِرَفْعِ الْيَدَيْنِ"** (দোয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর স্মরণ, হাত তোলা নয়)।  

**আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সুন্নত অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দিন। আমীন।**


Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Ok, Go it!