প্রকৃত আই লে সুন্নত ওয়াল জমা'ত, পরিচিতি ॥
আল্লাহ তায়া'লা মানুষ সৃষ্টি করেছেন শুধুমাত্র তার এবাদত করার
জন্য, নবী রাসূল পাঠিয়েছেন এবাদত ও এর নিয়মনীতি শিক্ষা দেয়ার
আল্লাহ্র এবাদত করে কি না, তা পরীক্ষা করার জন্য । এ পরীক্ষায় যারা
পাশ করবে, তাদের জন্য পরকালের চিরস্থায়ী জীবনে জান্নাত, আর যারা
ফেল করবে তাদের জন্য জাহান্নামে ঠিকানা তৈরী করেছেন এবং এ পাশ-
ফেলের হিসাব নিকাশ ও তার ফলাফল ঘোষণার জন্য কিয়ামতের দিন ধার্য
করেছেন।
কিন্তু দুঃখের বিষয় যে, পৃথিবীতে আসার পর অধিকাংশ মানুষ এসব
কথা ভূলে গিয়ে ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর তুচ্ছ ভোগ-বিলাসে মত্ত হযে যায়।
অবিশ্বাসী হয়ে পড়ে তার এ ধরায় আগমনের উদ্দেশ্য অথুবা আল্লাহর
প্রেরিত 'নবী-রাসূলের প্রচারিত সত্য ধর্ম ইসলামের প্রতি, অথবা স্বয়ং
আল্লাহ, পরকাল, কিয়ামতের হিসাব-নিকাশ এবং জান্লাত-জাহান্নামের
প্রতি। এ সমস্ত অবিশ্বাসীকেই কুরআনের ভাষায় কাফির বলা হয়। এদের
মধ্যে আবার বিভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে। যেমন, মুশরিক, নাস্তিক, মুরতাদ,
যিন্দীক, মুনাফিক, ভ্রান্তধর্মে বিশ্বাসী ইত্যাদি ॥
আর যারা আল্লাহর মনোনীত ও নবীগণের প্রচারিত একমাত্র সত্য ধর্ম
ইসলামে বিশ্বাসী, তাদেরকেই পবিত্র কুরআনের ভাষায় মুমিন বা মুসলমান
বলা হয়।
মহানবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
এর হাদীসের বিবরণ মতে তার উম্মত তথা মুসলমানদের নথ্যে আবার
কিছু সঠিকপন্থী মুসলমান, আর অধিকাংশই ভ্রান্তপস্থী মুসলমান সঠিকপতস্থী
মুসলমানদের দল মাত্র একটাই। আর তা হল আহলে সুনৃত ওয়াল
জমা'ত | আর ভ্রান্তপস্থী মুসলমানরা
বাহাত্তর দলে বিভক্ত । এরা সত্য ধর্ম
ইসলামে বিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও আবার ভ্রান্ত পহ্থা অবলম্বন করে কেন এত
দলে বিভক্ত হল? তা জানা যতটুকু দরকার, তার চেয়েও বেশি দরকার এ
কথা জানা যে, কোন্ সীমারেখার মাধ্যমে এ সমস্ত ভ্রান্তদল থেকে আহলে
সুন্নত ওয়াল জমা'ত আলাদাভাবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, যার আলোকে ভিন্ন নামে
পরিচিত ভ্রান্ত দলগুলির পরিচয় পাওয়া যাবে, সাথে সাথে যে সকল
প্রতারকরা আহলে সুন্নত ওয়াল জমা'তের সাইন বোর্ড লাগিয়ে সুনী সেজে
অথবা জামাত নাম ধারণ করে মুসলামানদের প্রতারণা করে থাকে তাদেরকেও চিনা
অন্যতম লক্ষ্য।
মহানবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা.-এর যুগ থেকে তার দ্বিতীয় খলীফা
হযরত উমর ফারুক রাযি.-এর যুগ পর্যন্ত ইসলামী আক্মী্দা-বিশ্বাসগত
মতাদর্শের প্রশ্রে যসলমানদের যথধ্যে কোন মতভেদ ছিল না; বরং সমস্ত
মুসলমানই ছিলেন বিশুদ্ধ ইসলামী আব্টন্দায় এঁক্যবদ্ধ। যার ফলে সারা
বিশ্বে অত্যন্ত সুনামের সাথে ইসলামের বিস্তৃতি ঘটছিল, যা ইসলামের
চিরশক্র ইহুদীদের জন্য অসহনীয় হয়ে দাড়ায় ।
তাই মুসলমানদের মধ্যে পারস্পরিক কোন্দল সৃষ্টি করতঃ ইসলামের
বিজয়যাত্রা স্তন করে দেয়ার কুচন্তান্ত নিয়ে এগিয়ে আসে. এক: মহাকুচক্রী
ইহুদী পণ্ডিত । নাম তার আবদুল্লাহ বিন সাবা, সংক্ষেপে ইবনে সাবা। এই
হতিহাস কুখ্যাত মুনাফিক ইবনে সাবা ইয়ামনের সান্য়া শহর থেকে সুদূর
মদীনা শরীফে এসে হযরত রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
. এর তৃতীয় খলীফা হযরত
উসমান রাযি,-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে
কালেমা পড়ে ইসলাম গ্রহণের অভিনয় করে,।..এভাবে সে নিজেকে
মুসলমান হিসেবে পরিচয় দিয়ে মুসলমান সমাজে ঠাই করে নিয়ে
মুসলমানদের মধ্যে আক্টব্দাগত বিভ্রান্তি সৃষ্টির সুযোগ করে নেয়।
প্রথমে সে মদীনাতেই এ বিভ্রান্তি সৃষ্টির সুযোগ তালাশ করে। কিন্তু '
এখানে ব্যর্থ হয়ে বসরা, কূকাা, সিরিয়া ইত্যাদি এলাকায় অভিযান চালিয়ে
তেন, সুযোগ করতে না পেরে, শেষ পর্যন্ত মিশরে গিয়ে সুযোগ পেয়ে
যায়। সেখানে গিয়ে সে অল্প শিক্ষিত এবং অশিক্ষিত সরল মুসলমানদের
ঘথ্যে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শ্রেষ্ঠ মর্যাদার দোহাই
তোলে ভ্রান্ত আকীদা সৃষ্টির চেষ্টা চালায়।
তার কুচক্রান্তের 'নমু.না ছিল, সে সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে এ মর্মে
বিভ্রান্তির সূত্রপাত করে যে, হযরত ঈসা আ. সর্বশ্রেষ্ঠ নবী না হওয়া সত্তেও
যদি আবার পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারেন, তাহলে আমাদের মহানবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া াহত্বাম সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হয়েও পুনরায় পৃথিবীতে
ফিরে আসতে পারবেন না কন? স্থূল দৃষ্টিতে তার এ চটকদার যুক্তিতে
অনেক মুসলমান ইসলামী আ ক্্দ্ণর মূলনীতি ভুলে, গিয়ে তার দলভুক্ত হয়ে
পড়ে। ,
অতঃপর সে তার দলকে আস্ত আস্তে বুঝাতে থাকে যে, যেহেতু
হযরত আলী রাযি, রাসূলুল্লাহর “আহছেণ. বাইত' বা পরিবারের সদস্য, তাই
তিনিই ছিলেন রাসূলের প্রথম খলীফা হওয়ার সুযোগ্য উত্তরাধিকারী ।
সুতরাং তাকে তার এ অধিকার থেকে বাঁ'্ণত করে যথাক্রমে হযরত আবু
বকর, উমর ও উসমান রাযি. জুলুম করে ছন। তাই উক্ত তিন খলীফার
খেলাফতে যারা বিশ্বাসী তার!ও জাদদিম। কাজই উসমানকে উৎখাত করে
খেলাফতের মসনদে বসাতে হবে। “এ..মর্মে উস্কানী_ দিয়ে সে
রাসূলের তৃতীয় খলীফা হযরত উসমান রাযি.-এরা বিরুদ্ধে যে দলটা তৈরি
করে, সে. দলটাই শীয়া'নে আলী বা আলীর দল, সংক্ষেপে শিয়া নামে
রচিত ।কুখ্যাত ইবনে সাবা মুসলমা'নদের মধ্যে আক্বীদাগত মতাদর্শের
ব্যাপারে এভাবেই কোন্দল সৃষ্টির স[ত্রপাত ঘটায়। তার অনুসারী
দলটাই
হযরত উসমান রাযি.-কে শহীদ কের । হযরত আলী রাযি.-কে খেলাফতের
দায়িত্ গ্রহণে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে, সর্বোপরি এই কুথ্যাত মুন্যফিক
ইবনে সাবার চক্রাতেই পরে “উটের যুদ্ধ” এবং “সিফ্ফীনের যুদ্ধ”
সংঘটিত হয়!
এক কথার এই কুখ্যাত ইবেন সাবাই মহানবী সা. ও তার প্রথম
খলীকা হওয়ার দাবি তোলে এবং «৭ দাবির ভিত্তিতে
খেলাফতক্কে জুলুম হিসেবে আখ্যায়িত করে।

