হানাফি মাযহাব অনুযায়ী কুরবানির পশু ও নিয়ম-কানুন বিস্তারিত বাংলায় লিখছি, আরবি দলিল সহ:
কুরবানির পশু (হানাফি মাযহাব অনুসারে):
১. উট: কমপক্ষে ৫ বছর বয়সী। একটি উটে ৭ জন শরীক হতে পারে।
২. গরু/মহিষ: কমপক্ষে ২ বছর বয়সী। একটি গরু/মহিষে ৭ জন শরীক হতে পারে।
৩. ছাগল/ভেড়া/দুম্বা: কমপক্ষে ১ বছর বয়সী (যদি ১ বছর পূর্ণ না করে কিন্তু দেখতে বড় ও স্বাস্থ্যবান হয়, তাহলে জায়েয)। শুধুমাত্র ১ জনের পক্ষে কুরবানি করা যায়।
দলিল (আরবি):
সূরা হজ্জ ২২:৩৬:
"وَالْبُدْنَ جَعَلْنَاهَا لَكُم مِّن شَعَائِرِ اللَّهِ"
(আরবী)
"আমি উট-গরুকে আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছি।"সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৫৬৫:
"عن أنس رضي الله عنه: ضحى النبي صلى الله عليه وسلم بكبشين أملحين"
"নবী (সা.) দুটি সাদা-কালো মিশ্রিত রঙের মোটাতাজা দুম্বা কুরবানি করেছিলেন।"
কুরবানির শর্তাবলি (হানাফি ফিকহ):
১. নিয়ত: কুরবানি শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হতে হবে।
২. সময়: ১০ই জিলহজ্জ ফজর থেকে ১২ই জিলহজ্জ সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
৩. পশুর স্বাস্থ্য: পশু সুস্থ ও নিখুঁত হতে হবে। নিম্নোক্ত ত্রুটিযুক্ত পশু জায়েয নয়:
অন্ধ বা একচোখে অন্ধ।
রোগাক্রান্ত বা অতিশয় দুর্বল।
কান বা লেজের বেশিরভাগ অংশ কাটা।
জন্মগতভাবে কান বা দাঁত নেই।
দলিল (আরবি):
সুনান আবু দাউদ, হাদীস ২৮০২:
"أربع لا تجوز في الأضاحي: العوراء البين عورها، والمريضة البين مرضها، والعرجاء البين ضلعها، والكسير التي لا تنقي"
"চার ধরনের পশু কুরবানিতে জায়েয নয়: স্পষ্ট অন্ধ, স্পষ্ট রোগগ্রস্ত, খোঁড়া এবং অতি দুর্বল।"
কুরবানির গোশত বণ্টন (হানাফি মাযহাব):
১. ৩ ভাগ করা মুস্তাহাব:
১ ভাগ গরিব-মিসকিনকে।
১ ভাগ আত্মীয়-স্বজনকে।
১ ভাগ নিজ পরিবারের জন্য।
২. সম্পূর্ণ দান করাও জায়েয, কিন্তু নিজে খাওয়া উত্তম।
দলিল (আরবি):
সূরা হজ্জ ২২:২৮:
"فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ"
"আর তোমরা তা থেকে আহার করো এবং দুঃখী-দরিদ্রকে আহার করাও।"
হানাফি মাযহাবের বিশেষ বিধান:
কুরবানি ওয়াজিব: যে মুসলিম নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক (সাড়ে ৭ তোলা সোনা বা ৫২.৫ তোলা রূপা বা সমমূল্যের সম্পদ), তার উপর কুরবানি ওয়াজিব।
কুরবানি না করলে গুনাহ: যদি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানি না করে, তাহলে গুনাহগার হবে।
দলিল (আরবি):
ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা (হানাফি ফিকহ গ্রন্থ):
"الأضحية واجبة على الموسر"
"কুরবানি সামর্থ্যবান ব্যক্তির উপর ওয়াজিব।"
সতর্কতা:
কুরবানির টাকা দান করলে কুরবানি আদায় হবে না, বরং পশু জবাইই জরুরি।
ঋণ করে কুরবানি করা মাকরুহ, যদি শোধ করার নিশ্চয়তা না থাকে।
ইনশাআল্লাহ, এই বিস্তারিত দলিল ও হানাফি মাযহাবের নিয়ম অনুসরণ করে সঠিকভাবে কুরবানি আদায় করতে পারবেন।

