কোন কোন জন্তু দিয়ে কুরবানি জায়েয ও যা জায়েয নয় (হানাফি মাযহাব অনুসারে)
১. কুরবানির জন্য জায়েয এমন পশু:
✅ উট: কমপক্ষে ৫ বছর বয়সী। ১টি উটে ৭ জন শরীক হতে পারে।
✅ গরু/মহিষ: কমপক্ষে ২ বছর বয়সী। ১টি গরু/মহিষে ৭ জন শরীক হতে পারে।
✅ ছাগল/ভেড়া/দুম্বা: কমপক্ষে ১ বছর বয়সী (যদি ১ বছর না পূর্ণ করে কিন্তু দেখতে বড় ও স্বাস্থ্যবান হয়, তাহলে জায়েয)। শুধুমাত্র ১ জনের পক্ষে কুরবানি করা যায়।
দলিল (আরবি সহ):
সূরা আল-হজ্জ ২২:৩৬:
وَالْبُدْنَ جَعَلْنَاهَا لَكُم مِّن شَعَائِرِ اللَّهِ
"আমি উট-গরুকে তোমাদের জন্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছি।"সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৫৬৫:
ضحى النبي صلى الله عليه وسلم بكبشين أملحين
"নবী (সা.) দুটি সাদা-কালো মিশ্রিত রঙের মোটাতাজা দুম্বা কুরবানি করেছিলেন।"
২. কুরবানির জন্য জায়েয নয় এমন পশু:
❌ অন্ধ বা একচোখে অন্ধ (যার দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণ বা অধিকাংশ নষ্ট)।
❌ অতিশয় রোগাক্রান্ত বা দুর্বল (যে হাঁটতে বা দাঁড়াতে অক্ষম)।
❌ খোঁড়া বা পঙ্গু (যে পা দিয়ে ঠিকমতো হাঁটতে পারে না)।
❌ কান বা লেজের বেশিরভাগ অংশ কাটা।
❌ জন্মগতভাবে কান বা শিং নেই (যদি তা স্পষ্ট বিকৃত দেখায়)।
❌ দাঁত ভাঙা বা বেশিরভাগ দাঁত পড়ে গেছে (যে ঘাস বা খাবার ঠিকমতো চিবোতে পারে না)।
দলিল (আরবি সহ):
সুনান আবু দাউদ, হাদীস ২৮০২:
أربع لا تجوز في الأضاحي: العوراء البين عورها، والمريضة البين مرضها، والعرجاء البين ضلعها، والكسير التي لا تنقي
"চার ধরনের পশু কুরবানিতে জায়েয নয়: স্পষ্ট অন্ধ, স্পষ্ট রোগগ্রস্ত, খোঁড়া এবং অতি দুর্বল।"
কুরবানির গোশত বণ্টন (হানাফি মাযহাব অনুযায়ী)
১. বণ্টনের নিয়ম:
🔹 ৩ ভাগে ভাগ করা মুস্তাহাব (উত্তম):
১ ভাগ গরিব-মিসকিনকে দান করুন।
১ ভাগ আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবকে দিন।
১ ভাগ নিজ পরিবারের জন্য রাখুন।
🔹 সম্পূর্ণ দান করাও জায়েয, তবে নিজে খাওয়া সুন্নত।
দলিল (আরবি সহ):
সূরা আল-হজ্জ ২২:২৮:
فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ
"তোমরা তা থেকে আহার করো এবং দুঃখী-দরিদ্রকে আহার করাও।"সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৭৭:
كلوا وأطعموا وادخروا
"তোমরা খাও, দান করো এবং সঞ্চয় করো।"
২. গোশত বণ্টনে সতর্কতা:
⚠️ অমুসলিমকে দেওয়া জায়েয, তবে গরিব মুসলিমকে অগ্রাধিকার দেওয়া উত্তম।
⚠️ পশুর চামড়া বা মূল্য দান করা যাবে, কিন্তু মাসজিদ/মাদ্রাসার কাজে ব্যবহার করা যাবে না (ব্যক্তিগত ব্যবহার বা বিক্রি করে দান করতে হবে)।
দলিল (আরবি সহ):
ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা (হানাফি ফিকহ গ্রন্থ):
لا يجوز بيع جلد الأضحية ولا دفع أجرة الجزار منها
"কুরবানির চামড়া বিক্রি করা বা কসাইয়ের মজুরি দেওয়া জায়েয নয়।"
হানাফি মাযহাবের বিশেষ নির্দেশনা:
📌 কুরবানি ওয়াজিব: যে ব্যক্তি নিসাব পরিমাণ সম্পদ (সাড়ে ৭ তোলা সোনা বা ৫২.৫ তোলা রূপা বা সমমূল্যের সম্পদ) এর মালিক, তার উপর কুরবানি ওয়াজিব।
📌 ঋণ করে কুরবানি: যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকে, তাহলে ঋণ করে কুরবানি করা মাকরুহ (যদি শোধের সামর্থ্য না থাকে)।
দলিল (আরবি সহ):
ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা:
الأضحية واجبة على الموسر
"কুরবানি সামর্থ্যবান ব্যক্তির উপর ওয়াজিব।"
সর্বোত্তম পদ্ধতি:
সুস্থ ও সুন্দর পশু নির্বাচন করুন (যেমন নবী (সা.) মোটাতাজা দুম্বা কুরবানি করেছিলেন)।
১০ই জিলহজ্জ ফজরের পর থেকে ১২ই জিলহজ্জ সূর্যাস্তের আগে জবাই করুন।
গোশত সঠিকভাবে বণ্টন করুন (গরিব-অসহায়দের দিতে ভুলবেন না)।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সঠিকভাবে কুরবানি আদায় করার তাওফিক দিন! আমীন! 🙏

