কুরবানির গোশত থেকে সাহায্যকারী (যেমন কসাই, পশু যত্নকারী) কে কী দেওয়া যাবে?
হানাফি মাযহাব মতে, কুরবানির গোশত বা চামড়া দিয়ে কসাই বা সাহায্যকারীর মজুরি দেওয়া জায়েয নয়। তাদের মজুরি আলাদাভাবে নগদ টাকা বা অন্য কোনো মাধ্যম থেকে পরিশোধ করতে হবে। তবে গোশত থেকে স্বেচ্ছায় উপহার দেওয়া জায়েয (যদি মজুরি আলাদা দেওয়া হয়)। নিচে বিস্তারিত দলিলসহ ব্যাখ্যা করা হলো:
১. কসাই/সাহায্যকারীকে মজুরি দেওয়ার নিয়ম:
নগদ টাকা বা সম্পদ দিয়ে মজুরি দিন: কুরবানির গোশত, চামড়া বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে মজুরি দেওয়া হারাম।
দলিল:
ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা (হানাফি ফিকহ):
"لا يجوز دفع أجرة الجزار من لحم الأضحية أو جلدها"
"কুরবানির গোশত বা চামড়া দিয়ে কসাইয়ের মজুরি দেওয়া জায়েয নয়।"সুনান আবু দাউদ, হাদীস ৩৪২২:
"أمرت أن أضحي فلا أبيع جلدها ولا أعطي الجزار منها"
"আমাকে কুরবানি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাই আমি এর চামড়া বিক্রি করবো না এবং কসাইকে এর থেকে দেবো না (মজুরি হিসেবে)।"
২. গোশত থেকে উপহার বা হাদিয়া দেওয়া:
যদি মজুরি আলাদাভাবে নগদ দেওয়া হয়, তাহলে কসাই বা সাহায্যকারীকে গোশত থেকে হাদিয়া (উপহার) দেওয়া জায়েয। এটি সুন্নত হিসেবেও গণ্য হয়।
উদাহরণ: ৭ ভাগের ১ ভাগ বা যেকোনো পরিমাণ গোশত উপহার দেওয়া যায়।
দলিল:
সহীহ বুখারী, হাদীস ১৭১৬:
"كان النبي صلى الله عليه وسلم يقبل الهدية ويثيب عليها"
"নবী (সা.) হাদিয়া (উপহার) গ্রহণ করতেন এবং এর বিনিময় দিতেন।"ফাতাওয়া শামী (হানাফি ফিকহ):
"إذا أعطى المضحي من لحم الأضحية للجزار هدية لا أجراً فجائز"
"যদি কুরবানিদাতা কসাইকে মজুরি হিসেবে নয়, বরং হাদিয়া (উপহার) হিসেবে গোশত দেয়, তাহলে জায়েয।"
৩. বাংলাদেশের প্রচলিত প্রথা ("৭ ভাগের ১ ভাগ আলাদা") সম্পর্কে হুকুম:
প্রথা: অনেক এলাকায় কসাইকে মজুরি ছাড়াও গোশতের ৭ ভাগের ১ ভাগ আলাদা দেওয়া হয়।
হুকুম:
যদি এটি মজুরির অংশ হিসেবে দেওয়া হয়, তাহলে জায়েয নয় (কারণ মজুরি নগদ দিতে হবে)।
যদি এটি নগদ মজুরি দেওয়ার পর অতিরিক্ত উপহার হিসেবে দেওয়া হয়, তাহলে জায়েয।
দলিল:
রদ্দুল মুহতার (হানাফি ফিকহ):
"إن دفع اللحم كأجرة حرام، وإن دفع هدية بعد الأجرة حلال"
"মজুরি হিসেবে গোশত দেওয়া হারাম, কিন্তু মজুরি দেওয়ার পর হাদিয়া হিসেবে গোশত দেওয়া হালাল।"
৪. সঠিক পদ্ধতি:
১. কসাইয়ের মজুরি নগদ টাকা/সম্পদে পরিশোধ করুন (গোশত/চামড়া দিয়ে নয়)।
২. ইচ্ছা করলে গোশতের অংশ উপহার দিন (যেমন: ৭ ভাগের ১ ভাগ বা যেকোনো পরিমাণ)।
৩. গরিব-মিসকিনকে গোশত দিতে ভুলবেন না (কুরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি ও গরিবদের সাহায্য)।
সতর্কতা:
⚠️ চামড়া বিক্রি করে মজুরি দেওয়াও নিষিদ্ধ। চামড়া দান করুন বা নিজে ব্যবহার করুন।
⚠️ কুরবানির গোশত বিনিময় বা বিক্রি করা হারাম (সূরা হজ্জ ২২:৩৬)।
দলিল:
সূরা আল-হজ্জ ২২:৩৬:
وَلَا تَبْخَسُوا النَّاسَ أَشْيَاءَهُمْ
"আর মানুষের অধিকার খর্ব করো না।"
মূলনীতি:
কুরবানির গোশত আল্লাহর নামে উৎসর্গকৃত, তাই তা শুধুমাত্র খাওয়া, দান ও হাদিয়া এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। মজুরি বা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার নিষিদ্ধ।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সুন্নত অনুযায়ী কুরবানি আদায় করার তাওফিক দিন! আমীন! 🌙🕋

