👉 📖 কবর ও হাশরের বিশদ বর্ণনা (কুরআন, হাদিস ও ইসলামিক ফিকহের আলোকে)
ইসলামে কবর (برْزَخ - Barzakh) ও হাশর (الحشر - Al-Hashr) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মৃত্যু থেকে শুরু করে কবর, হাশর, মীযান, সীরাত এবং জান্নাত-জাহান্নাম পর্যন্ত মানুষের চূড়ান্ত গন্তব্য কুরআন ও হাদিসে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
১️⃣ কবর (قبر) ও বারযাখের জীবন
কবরের পরের জীবনকে বলা হয় বারযাখ (برزخ) – অর্থাৎ দুনিয়া ও আখিরাতের মধ্যবর্তী জীবন।
🔹 আল্লাহ বলেনঃ
وَمِن وَرَائِهِم بَرْزَخٌ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ
"আর তাদের সামনে রয়েছে বারযাখ (মধ্যবর্তী জীবন), পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত।"
— (সূরা আল-মুমিনূন 23:100)
কবরের প্রশ্ন
রাসূল ﷺ বলেছেনঃ
إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ وَتَوَلَّىٰ عَنْهُ أَصْحَابُهُ إِنَّهُ لَيَسْمَعُ قَرْعَ نِعَالِهِمْ...
"যখন বান্দাকে কবরস্থ করা হয় এবং তার সাথীরা চলে যায়, সে তাদের জুতার শব্দও শুনতে পায়। তখন তার কাছে দুইজন ফেরেশতা আসে, তাকে বসায় এবং জিজ্ঞেস করে – 'তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কি? এবং এই ব্যক্তি (রাসূল ﷺ) সম্পর্কে তুমি কী বলো?'"
— (সহিহ বুখারী 1338, সহিহ মুসলিম 2870)
কবরের আজাব ও নিয়ামত
-
মুমিনের কবর প্রশস্ত ও শান্তিময় হয়।
-
কাফির বা মুনাফিকের কবর সংকুচিত হয়ে যায় এবং আজাব হয়।
রাসূল ﷺ বলেছেনঃ
القبرُ إمَّا روضةٌ من رياضِ الجنَّةِ أو حفرةٌ من حفرِ النَّارِ
"কবর হয় জান্নাতের বাগানের একটি বাগান অথবা জাহান্নামের গর্তগুলোর একটি গর্ত।"
— (সুনান তিরমিজি 2460, হাসান হাদিস)
২️⃣ হাশর (الحشر) – পুনরুত্থান ও মহাসমাবেশ
হাশর অর্থ হচ্ছে কিয়ামতের দিন মানুষের পুনরুত্থান ও এক স্থানে সমাবেশ।
কুরআনের দলিল
🔹 আল্লাহ বলেনঃ
يَوْمَ نَحْشُرُ الْمُتَّقِينَ إِلَى الرَّحْمَٰنِ وَفْدًا وَنَسُوقُ الْمُجْرِمِينَ إِلَىٰ جَهَنَّمَ وِرْدًا
"যেদিন আমরা মুত্তাকীদেরকে রহমানের দিকে সমবেত করব সম্মানের সাথে, আর অপরাধীদেরকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাব জাহান্নামের দিকে।"
— (সূরা মারইয়াম 19:85-86)
হাশরের ময়দানের বর্ণনা
রাসূল ﷺ বলেছেনঃ
يُحْشَرُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حُفَاةً عُرَاةً غُرْلًا
"কিয়ামতের দিন মানুষকে সমবেত করা হবে খালি পায়ে, উলঙ্গ অবস্থায় এবং খৎনা ছাড়া অবস্থায়।"
— (সহিহ বুখারী 6527, সহিহ মুসলিম 2859)
৩️⃣ হাশরের ময়দানে মানুষের অবস্থা
-
সূর্য মাথার কাছে থাকবে, ঘাম মানুষকে আচ্ছন্ন করবে। (সহিহ মুসলিম 2864)
-
মানুষ ভয় ও আতঙ্কে দিশেহারা হবে।
-
সুপারিশ (শাফাআত) শুধুমাত্র রাসূল ﷺ এর মাধ্যমে শুরু হবে। (সহিহ মুসলিম 194)
৪️⃣ হাশরের পরবর্তী ধাপসমূহ
-
আমলনামা বিতরণ – কারো ডান হাতে, কারো বাম হাতে।
-
فَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ ...
"যাকে ডান হাতে আমলনামা দেওয়া হবে, সে আনন্দে বলবে – নাও, আমার আমলনামা পড়।" (সূরা আল-হাক্কাহ 69:19)
-
-
মীযান (তুলাদণ্ডে আমল ওজন করা)
— (সূরা আল-আ'রাফ 7:8) -
সীরাত সেতু পার হওয়া – জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝে একটি সেতু।
— (সহিহ বুখারী 6573)
সারসংক্ষেপ
-
কবর: প্রথম ধাপ, যেখানে প্রশ্নোত্তর, আজাব ও নিয়ামত শুরু হয়।
-
হাশর: কিয়ামতের ময়দানে সকল মানুষ একত্রিত হবে, বিচার শুরু হবে।
-
এর পর মীযান, আমলনামা, সীরাত এবং সর্বশেষে জান্নাত বা জাহান্নাম নির্ধারণ হবে।
📖 কবরের আজাব ও নিয়ামত + হাশরের ময়দানে মানুষের অবস্থা
(কুরআন, সহিহ হাদিস ও ফিকহের আলোকে)
১️⃣ কবরের আজাব ও নিয়ামত
কবরের আজাব (عذاب القبر)
মৃত্যুর পর কাফির, মুনাফিক ও পাপী মুসলিমদের কবরের ভেতর শাস্তি দেওয়া হয়।
🔹 আল্লাহ বলেনঃ
النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوًّا وَعَشِيًّا ۖ وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ أَدْخِلُوا آلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ
"আগুন তাদের সামনে সকাল-সন্ধ্যা উপস্থাপন করা হবে, আর কিয়ামতের দিন বলা হবে — ফিরআউনের পরিবারকে কঠিনতম শাস্তিতে প্রবেশ করাও।"
— (সূরা গাফির 40:46)
এটি কবরের আজাবের পরিষ্কার প্রমাণ।
হাদিসে কবরের আজাবের বর্ণনা
রাসূল ﷺ বলেছেনঃ
إِنَّهُمَا لَيُعَذَّبَانِ، وَمَا يُعَذَّبَانِ فِي كَبِيرٍ...
"এই দুইজনকে (কবরে) শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। অথচ তারা এমন কারণে শাস্তি পাচ্ছে, যা মানুষ বড় মনে করে না। একজন প্রস্রাব থেকে বাঁচতো না, আরেকজন পরনিন্দা করতো।"
— (সহিহ বুখারী 216, সহিহ মুসলিম 292)
কবরের নিয়ামত (نعيم القبر)
মুমিনদের জন্য কবর শান্তিময় ও স্বস্তিদায়ক হয়।
রাসূল ﷺ বলেছেনঃ
إنَّ الميتَ إذا وُضِعَ في قبرِه إنَّه ليسمعُ خفقَ نعالِهم إذا ولَّوا، فإن كان مؤمنًا كانت الصلاةُ عند رأسِه...
"মৃত ব্যক্তিকে কবর দেওয়ার পর সে তার সাথীদের জুতার শব্দ শোনে। যদি সে মুমিন হয় তবে তার নামাজ, রোজা, যাকাত এবং সৎকর্মগুলো তার পাশে এসে দাঁড়ায় এবং তাকে রক্ষা করে।"
— (সুনান আবু দাউদ 3236, সহিহ)
২️⃣ হাশরের ময়দানে মানুষের অবস্থা
কিয়ামতের দিন হাশরের ময়দান হবে এমন ভয়াবহ যে মানুষ পাগলের মতো দৌড়াদৌড়ি করবে।
১. নগ্ন, খালি পায়ে ও খৎনা ছাড়া অবস্থায়
রাসূল ﷺ বলেছেনঃ
يُحْشَرُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حُفَاةً عُرَاةً غُرْلًا
"কিয়ামতের দিন মানুষকে খালি পায়ে, উলঙ্গ অবস্থায় এবং খৎনা ছাড়া একত্র করা হবে।"
— (সহিহ বুখারী 6527, সহিহ মুসলিম 2859)
২. সূর্য মাথার কাছাকাছি থাকবে
রাসূল ﷺ বলেছেনঃ
تَدْنُو الشَّمْسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنَ الخَلْقِ، حتَّى تَكُونَ مِنْهُمْ كَمِقْدَارِ مِيلٍ...
"কিয়ামতের দিন সূর্য সৃষ্টির নিকটবর্তী করা হবে, এমনকি তাদের থেকে মাত্র এক মাইল দূরে থাকবে। তখন মানুষের ঘাম তাদেরকে ঢেকে ফেলবে — কারো গোড়ালি পর্যন্ত, কারো হাঁটু পর্যন্ত, কারো কোমর পর্যন্ত, আর কারো ঘাম তাদের মুখ পর্যন্ত ঢেকে দেবে।"
— (সহিহ মুসলিম 2864)
৩. আতঙ্ক ও সুপারিশের (শাফাআত) প্রয়োজন
মানুষ ভয় ও আতঙ্কে নবীদের কাছে যাবে — আদম (আঃ), নূহ (আঃ), ইবরাহিম (আঃ), মূসা (আঃ), ঈসা (আঃ) — কিন্তু কেউ সাহস করবে না। শেষ পর্যন্ত তারা রাসূল ﷺ এর কাছে আসবে, তিনি আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবেন এবং বিচার শুরু হবে।
— (সহিহ মুসলিম 194)
৪. মানুষের ভিন্ন ভিন্ন দল
কুরআনে বলা হয়েছে—
يَوْمَئِذٍ يَصَّدَّعُونَ فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ فَهُمْ فِي رَوْضَةٍ يُحْبَرُونَ وَأَمَّا الَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَلِقَاءِ الْآخِرَةِ فَأُولَٰئِكَ فِي الْعَذَابِ مُحْضَرُونَ
"সেদিন মানুষ বিভক্ত হয়ে যাবে। যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তারা জান্নাতের বাগানে থাকবে। আর যারা কুফরি করেছে ও আমাদের আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছে, তারা শাস্তির মধ্যে হাজির করা হবে।"
— (সূরা আর-রূম 30:14-16)
✅ সারসংক্ষেপঃ
-
কবর হলো প্রথম ধাপ – মুমিনদের জন্য নিয়ামত, কাফিরদের জন্য আজাব।
-
হাশর হলো মহাসমাবেশ – সবাই উলঙ্গ, আতঙ্কিত, সূর্যের নিচে, ঘামে ভিজে, বিচারের জন্য অপেক্ষা করবে।
-
তারপর শুরু হবে আমলনামা, মীযান, সীরাত ও শেষ পর্যন্ত জান্নাত-জাহান্নামের ফয়সালা।
📖 মীযান, আমলনামা ও সীরাত সেতুর বর্ণনা
(কুরআন, সহিহ হাদিস ও ফিকহের আলোকে)
১️⃣ মীযান (المِيزَان) – আমল ওজন করার পাল্লা
কুরআনের দলিল
🔹 আল্লাহ বলেনঃ
وَنَضَعُ الْمَوَازِينَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ فَلَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا ۖ وَإِن كَانَ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِّنْ خَرْدَلٍ أَتَيْنَا بِهَا ۗ وَكَفَىٰ بِنَا حَاسِبِينَ
"আমি কিয়ামতের দিনে ন্যায়সঙ্গত পাল্লা স্থাপন করব, ফলে কারও প্রতি সামান্যও জুলুম করা হবে না। সরিষার দানার সমান কাজও আমি নিয়ে আসব, আর হিসাব গ্রহণকারী হিসেবে আমিই যথেষ্ট।"
— (সূরা আল-আম্বিয়া 21:47)
হাদিসের দলিল
রাসূল ﷺ বলেছেনঃ
كلمتان خفيفتان على اللسان، ثقيلتان في الميزان، حبيبتان إلى الرحمن: سبحان الله وبحمده، سبحان الله العظيم
"দুটি কথা আছে যা জিভে হালকা, কিন্তু মীযানে (পাল্লায়) ভারী এবং রহমানের কাছে প্রিয়: সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আযীম।"
— (সহিহ বুখারী 6682, সহিহ মুসলিম 2694)
👉 অর্থাৎ মানুষের আমল শুধু লিখিত নয়, ওজন করা হবে।
২️⃣ আমলনামা (كِتَاب الأعمال) – কর্মফলনামা বিতরণ
কুরআনের দলিল
🔹 আল্লাহ বলেনঃ
فَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ فَيَقُولُ هَاؤُمُ اقْرَءُوا كِتَابِيَهْ
"যে ব্যক্তি তার আমলনামা ডান হাতে পাবে, সে আনন্দে বলবে – নাও, আমার আমলনামা পড়ো।"
— (সূরা আল-হাক্কাহ 69:19)
وَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِشِمَالِهِ فَيَقُولُ يَا لَيْتَنِي لَمْ أُوتَ كِتَابِيَهْ
"আর যার হাতে আমলনামা বাম দিক থেকে দেওয়া হবে, সে বলবে – হায়! যদি আমার আমলনামা আমাকে না দেওয়া হতো।"
— (সূরা আল-হাক্কাহ 69:25)
হাদিসের দলিল
রাসূল ﷺ বলেছেনঃ
إن اللهَ سيُخلِّصُ رجلًا من أمتي على رؤوسِ الخلائقِ يومَ القيامةِ... فيُعطَى كتابًا منشورًا...
"আল্লাহ কিয়ামতের দিনে আমার উম্মতের এক ব্যক্তিকে সবার সামনে আলাদা করবেন এবং তাকে খোলা আমলনামা প্রদান করবেন।"
— (সহিহ মুসলিম 190)
👉 ডান হাতে আমলনামা পাওয়া মানে জান্নাত, বাম হাতে পাওয়া মানে জাহান্নাম।
৩️⃣ সীরাত সেতু (الصِّرَاط) – জান্নাত-জাহান্নামের মাঝে সেতু
হাদিসের দলিল
রাসূল ﷺ বলেছেনঃ
يُضرَبُ الصراطُ بين ظهرانَي جهنمَ، فأكونُ أنا وأمتي أولَ من يُجيزُ... ويُؤذَنُ للرسلِ يومئذٍ، وعلى جسرِ جهنمَ كلاليبُ مثلُ شوكِ السَّعدانِ... فناجٍ مسلمٌ، ومخدوشٌ مرسَلٌ، ومكدوسٌ في نارِ جهنمَ
"জাহান্নামের উপর সীরাত সেতু স্থাপন করা হবে। আমি ও আমার উম্মত প্রথম পার হবো। সেতুর উপর কাঁটার মতো হুক থাকবে। কেউ নিরাপদে পার হবে, কেউ আঁচড় খেয়ে বাঁচবে, আর কেউ জাহান্নামে পড়ে যাবে।"
— (সহিহ বুখারী 6573, সহিহ মুসলিম 183)
সেতু পারাপারের বর্ণনা
-
মুমিনরা আমল অনুযায়ী দ্রুত পার হবে – কেউ বাতাসের মতো, কেউ ঘোড়ার মতো, কেউ হাঁটার মতো।
-
পাপীরা হোঁচট খাবে এবং অনেকে আগুনে পড়ে যাবে।
✅ সারসংক্ষেপ
-
মীযান (আমল ওজন): প্রত্যেক কাজ পাল্লায় ওজন হবে, আল্লাহ সুবিচার করবেন।
-
আমলনামা বিতরণ: মুমিনরা ডান হাতে পাবে, কাফিররা বাম হাতে।
-
সীরাত সেতু: জান্নাতে প্রবেশের আগে জাহান্নামের উপর একটি সেতু পার হতে হবে। মুমিন নিরাপদে পার হবে, পাপীরা পড়ে যাবে।
📖 হাউজে কাওসার, হিসাব-নিকাশ ও জান্নাত-জাহান্নামের ফয়সালা
(কুরআন, সহিহ হাদিস ও ফিকহের আলোকে)
১️⃣ হাউজে কাওসার (الحوض) – রাসূল ﷺ এর হাউজ
কুরআনের দলিল
🔹 আল্লাহ বলেনঃ
إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ
"নিশ্চয়ই আমি তোমাকে কাওসার দান করেছি।"
— (সূরা আল-কাওসার 108:1)
হাদিসের দলিল
রাসূল ﷺ বলেছেনঃ
حوضي مسيرةُ شهرٍ، ماؤُه أبيضُ من اللبنِ، وريحه أطيبُ من المسكِ، وكيزانُه كنجومِ السماءِ، من شرب منه فلا يظمأُ أبدًا
"আমার হাউজ (পুকুর) এক মাসের পথ দীর্ঘ। এর পানি দুধের চেয়েও সাদা, মস্কের চেয়েও সুগন্ধি, আর এর পানির পাত্রগুলো আকাশের নক্ষত্রের মতো ঝলমলে। যে একবার এর পানি পান করবে সে আর কখনো পিপাসিত হবে না।"
— (সহিহ বুখারী 6579, সহিহ মুসলিম 2292)
👉 তবে কিছু লোক (বিদআতকারী ও কুফরকারী) রাসূল ﷺ এর হাউজ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে।
২️⃣ হিসাব-নিকাশ (الحساب)
কুরআনের দলিল
🔹 আল্লাহ বলেনঃ
فَوَرَبِّكَ لَنَسْأَلَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ
"তোমার রবের কসম! অবশ্যই আমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করব তারা কী করত।"
— (সূরা আল-হিজর 15:92-93)
হাদিসের দলিল
রাসূল ﷺ বলেছেনঃ
أوَّلُ ما يُحاسَبُ به العبدُ يومَ القيامةِ الصَّلاةُ، فإن صلُحَت صلُحَ سائرُ عملِه، وإن فسدت فسد سائرُ عملِه
"কিয়ামতের দিন বান্দার প্রথম হিসাব নেওয়া হবে নামাজ থেকে। যদি তা সঠিক হয় তবে সব আমল সঠিক হবে, আর যদি তা নষ্ট হয় তবে সব আমল নষ্ট হবে।"
— (সুনান তিরমিজি 413, সহিহ)
৩️⃣ জান্নাত ও জাহান্নামের ফয়সালা
জান্নাতের বর্ণনা
🔹 আল্লাহ বলেনঃ
وَبَشِّرِ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ...
"যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তাদেরকে সুসংবাদ দাও যে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার নিচে নদী প্রবাহিত।"
— (সূরা আল-বাকারাহ 2:25)
🔹 রাসূল ﷺ বলেছেনঃ
فيها ما لا عينٌ رأتْ، ولا أذنٌ سمعتْ، ولا خطرَ على قلبِ بشرٍ
"জান্নাতে এমন সব নিয়ামত আছে যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি, এবং মানুষের অন্তরে কল্পনাও আসে নি।"
— (সহিহ বুখারী 3244, সহিহ মুসলিম 2824)
জাহান্নামের বর্ণনা
🔹 আল্লাহ বলেনঃ
كُلَّمَا خَبَتْ زِدْنَاهُمْ سَعِيرًا
"যখনই (জাহান্নামের আগুন) প্রশমিত হবে তখনই আমরা তাদের জন্য তা আরও প্রজ্বলিত করে দেব।"
— (সূরা আল-ইসরা 17:97)
🔹 রাসূল ﷺ বলেছেনঃ
نارُكم هذه التي يُوقِدُ ابنُ آدمَ جزءٌ من سبعينَ جزءًا من حرِّ جهنَّمَ
"তোমাদের এ দুনিয়ার আগুন হলো জাহান্নামের আগুনের সত্তর ভাগের একটি অংশ মাত্র।"
— (সহিহ বুখারী 3265, সহিহ মুসলিম 2843)
✅ সারসংক্ষেপ
-
হাউজে কাওসার: রাসূল ﷺ এর উম্মতের জন্য জান্নাতে প্রবেশের আগে পবিত্র পানির পুকুর।
-
হিসাব-নিকাশ: প্রতিটি আমলের বিচার হবে; প্রথমে নামাজ, তারপর অন্যান্য আমল।
-
চূড়ান্ত ফয়সালা: মুমিনরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, কাফিররা জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
