ইসলামে আয় এবং ব্যবসা সংক্রান্ত বিধান অত্যন্ত স্পষ্ট এবং তা হালাল (বৈধ) ও হারাম (অবৈধ) আয়কে পৃথকভাবে চিহ্নিত করে। ইউটিউবের মাধ্যমে ইসলামিক ভিডিও আপলোড করে আয় করা ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী বৈধ হতে পারে যদি তা কিছু শর্ত মেনে চলে। নিচে আরবি দলিলসহ বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
### ১. বৈধ বিষয়বস্তু
ইসলামী ভিডিও নির্মাণের ক্ষেত্রে বিষয়বস্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি ভিডিওতে ইসলামী শিক্ষার প্রচার, কুরআন-হাদিস, সৎ ও নৈতিক মূল্যবোধের কথা বলা হয়, তবে তা অবশ্যই বৈধ হবে। তবে, যদি ভিডিওতে কোনো হারাম কাজ, যেমন অশ্লীলতা, মদ্যপান বা জুয়া প্রদর্শিত হয়, তাহলে তা শরীয়ত অনুযায়ী বৈধ হবে না।
**আরবি দলিল:**
- **الْحَلاَلُ مَا حَلَّلَ اللَّهِ وَالْحَرَامُ مَا حَرَّمَ اللَّهِ**
"হালাল হচ্ছে, যা আল্লাহ তা’আলা হালাল করেছেন এবং হারাম হচ্ছে, যা আল্লাহ তা’আলা হারাম করেছেন।" (আল-হাদীদ 57: 13)
- **وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ**
"তোমরা একে অপরের সহায়তা করো ভালো কাজে এবং আল্লাহর ভয় করতে, এবং পাপ ও বিদ্বেষের কাজে একে অপরের সহায়তা করো না।" (আল-মায়িদাহ 5: 2)
### ২. আয় বৈধ হওয়া
ইউটিউবের মাধ্যমে আয় করতে হলে, তা যদি বিজ্ঞাপন বা স্পন্সরশিপ থেকে আসে, তবে নিশ্চিত হতে হবে যে এসব আয় হালাল উপায়েই হচ্ছে। কোনো হারাম বা নিষিদ্ধ পণ্য বা সেবার প্রচারণা করা যাবে না, যেমন মদ, জুয়া, বা কোনো ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ।
**আরবি দলিল:**
- **يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ**
"হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা একে অপরের ভাই।" (আল-হুজুরাত 49: 10)
এখানে, সমাজে হালাল আয়ের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহানুভূতি প্রদর্শনের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
- **فَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا**
"তোমরা সকলেই আল্লাহর দড়িতে আঁকড়ে ধরো এবং বিভক্ত হয়ো না।" (আل-ইমরান 3: 103)
এখানে আল্লাহর নির্দেশনা হলো যে, সঠিক পথ অনুসরণ করো, এবং তা থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না, অর্থাৎ হালাল উপায়ে আয়ের পথই অনুসরণ করতে হবে।
### ৩. মানুষের উপকারিতা
ইসলামে তা-ই বৈধ যা মানুষের উপকারে আসে এবং যা সমাজের উন্নতির জন্য সহায়ক। যদি ইসলামী ভিডিও থেকে মানুষের উপকার হয়, যেমন ইসলামী শিক্ষা বা নৈতিক মূল্যবোধ প্রদান, তবে তা ভালো এবং বৈধ হতে পারে।
**আরবি দলিল:**
- **إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ كَانَتْ لَهُمْ جَنَّاتُ النَّعِيمِ**
"যারা বিশ্বাস করেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্য রয়েছে অনুগ্রহের বাগান।" (আل-فرقان 25: 15)
- **مَنْ لا يَفْعَلُ خَيْرًا فِي عُمُرِهِ فِي دُّنْيَا لَا يَفْعَلُهُ فِي آخِرَتِهِ**
"যে ব্যক্তি তার জীবনে ভালো কিছু করে না, সে তার পরকালে তা করতে পারবে না।" (সুনান আবু দাউদ)
### ৪. ইউটিউব থেকে আয় বৈধতা
ইউটিউব থেকে আয় করতে হলে, ব্যবসা বা বিজ্ঞাপনগুলি হালাল হতে হবে এবং ভিডিও থেকে পাওয়া আয় যদি হালাল উপায়ে আসে তবে তা শরীয়ত সম্মত হবে। তবে যদি ভিডিওর মাধ্যমে কোনো হারাম বিষয় প্রচারিত হয়, যেমন অশ্লীলতা বা নৈতিকভাবে ক্ষতিকর কিছু, তবে সেই আয় হারাম হবে।
**আরবি দলিল:**
- **وَأَحَلَّ اللَّّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا**
"আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।" (আل-বাকারা 2: 275)
### উপসংহার:
ইসলামী ভিডিও নির্মাণের মাধ্যমে ইউটিউব থেকে আয় করার ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশনা হলো:
1. **বিষয়বস্তু হালাল হতে হবে।**
2. **আয়ের উৎস হালাল হতে হবে।**
3. **ভিডিও মানুষের উপকারে আসা উচিত।**
4. **শরীয়তের বিধান অনুযায়ী সবকিছু পরিচালিত হতে হবে।**
এই শর্তগুলো মেনে চললে ইউটিউব থেকে আয় করা ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী বৈধ হবে। তবে যদি কোনো অশ্লীল বা হারাম বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে, তবে তা হারাম হবে এবং সেই আয় বৈধ হবে না।

