স্বামীর স্ত্রীর উপর হক (অধিকার) বা স্ত্রীর উপর স্বামীর প্রতি কর্তব্য ইসলাম ধর্মে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো আরবি দলিলসহ, যাতে বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায়।
══════════════════════
🔖 শিরোনাম: স্ত্রীর উপর স্বামীর হক (কর্তব্য)
📖 কুরআন ও হাদীস দ্বারা বিস্তারিত বর্ণনা
══════════════════════
📌 সারসংক্ষেপে স্ত্রীর উপর স্বামীর হক:
-
স্বামীর আনুগত্য করা (যথার্থ বিষয়ে)
-
তার ইজ্জত ও মাল রক্ষা করা
-
অনুমতি ছাড়া ঘর থেকে না বের হওয়া
-
স্বামীর মানসম্মান রক্ষা করা
-
সন্তুষ্ট রাখা ও প্রেম-ভালোবাসা বজায় রাখা
-
স্বামীর যৌন চাহিদা পূরণ করা (যথাসময়ে)
-
ধৈর্য ও সহনশীলতা অবলম্বন করা
—
🕌 কুরআনের আলোকে স্ত্রীর উপর স্বামীর হক:
﴿فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِّلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللَّهُ﴾
— সূরা আন-নিসা: ৩৪
🔹 বাংলা অনুবাদ:
"সৎ স্ত্রীগণ হয়ে থাকে অনুগত এবং আল্লাহ যা সংরক্ষণ করতে বলেছেন, তা স্বামীর অনুপস্থিতিতেও রক্ষা করে।"
🔸 ব্যাখ্যা:
স্ত্রীকে স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার সম্পদ, সম্মান, পরিবার ও গোপন বিষয়সমূহ রক্ষা করতে হয়।
—
🕌 হাদীস দ্বারা স্বামীর অধিকার:
১. স্বামীর আনুগত্য করা
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله ﷺ:
❝إِذَا صَلَّتِ الْمَرْأَةُ خَمْسَهَا، وَصَامَتْ شَهْرَهَا، وَحَصَّنَتْ فَرْجَهَا، وَأَطَاعَتْ زَوْجَهَا، قِيلَ لَهَا: ادْخُلِي الْجَنَّةَ مِنْ أَيِّ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ شِئْتِ.❞
— سنن ابن ماجه، 1852 | সহিহ
🔹 অর্থ:
যদি কোনো নারী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, রমজানের রোজা রাখে, নিজের সতীত্ব রক্ষা করে এবং স্বামীর আনুগত্য করে — তাকে বলা হবে, "তুমি জান্নাতের যেকোনো দরজা দিয়ে প্রবেশ করো।"
—
২. স্বামীর অনুমতি ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়া
قال رسول الله ﷺ:
❝لا تَحِلُّ المرأةُ أن تصومَ وزوجُها شاهدٌ إلَّا بإذنِه، ولا تأذنَ في بيتِه إلَّا بإذنِه❞
— صحيح البخاري: 5195
🔹 অর্থ:
স্ত্রীর জন্য বৈধ নয় যে, স্বামী ঘরে থাকলে তার অনুমতি ছাড়া নফল রোযা রাখবে কিংবা তার অনুমতি ছাড়া কাউকে ঘরে ঢুকতে দেবে।
—
৩. স্বামীর অধিকার স্ত্রীর উপর সর্বোচ্চ
قال النبي ﷺ:
❝لَوْ كُنْتُ آمِرًا أَحَدًا أَنْ يَسْجُدَ لِأَحَدٍ، لَأَمَرْتُ النِّسَاءَ أَنْ تَسْجُدَ لِأَزْوَاجِهِنَّ، لِمَا جَعَلَ اللَّهُ لَهُمْ عَلَيْهِنَّ مِنَ الْحَقِّ❞
— سنن الترمذي: 1159 | সহিহ
🔹 অর্থ:
"যদি আমি কাউকে কাউকে সিজদা করার আদেশ দিতাম, তাহলে আমি নারীদেরকে তাদের স্বামীদের জন্য সিজদা করতে আদেশ দিতাম; কারণ, স্বামীদের স্ত্রীর উপর এত অধিক হক আছে।"
—
৪. স্ত্রী স্বামীকে কষ্ট দিলে ফেরেশতা অভিশাপ দেয়
قال رسول الله ﷺ:
❝إذا دعا الرجل امرأته إلى فراشه فأبت، فبات غضبان عليها، لعنتها الملائكة حتى تصبح❞
— صحيح البخاري: 3237
🔹 অর্থ:
যদি কোনো স্বামী স্ত্রীকে বিছানায় আহ্বান করে এবং স্ত্রী অস্বীকার করে, ফলে স্বামী বিরক্ত হয়ে রাতে থাকে — তাহলে ফেরেশতা সারা রাত তাকে অভিশাপ দেয়।
—
🟩 অন্যান্য দায়িত্বসমূহ:
-
স্বামীকে সম্মান ও সম্মোধন করা
-
স্বামীর অপছন্দনীয় বিষয় এড়িয়ে চলা
-
তার আত্মীয়-স্বজনকে সম্মান করা
-
পরিবারের মান-ইজ্জত রক্ষা করা
-
সন্তানদের উত্তমভাবে লালনপালন করা
—
💠 বিশিষ্ট আলেমদের বক্তব্য:
◼ ইমাম নববী (রহ.) বলেন:
“স্বামীর অধিকার স্ত্রীর উপর পিতা-মাতার থেকেও বেশি, কারণ আল্লাহ তাদেরকে স্ত্রীর অভিভাবক ও দায়িত্বশীল করেছেন।”
— (শরহে সহিহ মুসলিম)
—
🟢 উপসংহার:
ইসলামে বিবাহ শুধু পারিবারিক সম্পর্ক নয় বরং তা ইবাদতও। একে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী পরিচালনা করতে হয়। স্ত্রী যদি স্বামীর প্রতি কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করে, তা জান্নাতের পথ সুগম করে দেয়।
📚 উল্লেখযোগ্য দলিলসূত্র:
-
কুরআন: সূরা আন-নিসা (৪:৩৪), সূরা আর-রূম (৩০:২১)
-
হাদীস: সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, সুনান আবু দাউদ, তিরমিজী, ইবন মাজা।
আল্লাহ আমাদেরকে দ্বীন বুঝে চলার তাওফিক দিন — আমীন। 🤲
