🌙 হজ ও উমরাহ কাহাকে বলে?
🔹 হজ (الحجّ)
👉 হজ শব্দের অর্থ – উদ্দেশ্য করা, কাওকে বা কিছুকে নির্দিষ্ট সময়ে ভ্রমণ করা।
শরীয়তের পরিভাষায়:
الحجّ هو قصد مكّة المكرّمة لأداء مناسك مخصوصة في وقت مخصوص.
অর্থাৎ— হজ্জ হলো নির্দিষ্ট সময়ে (যিলহজ্জ মাসে) কা‘বাহ শরীফে গিয়ে বিশেষ কিছু ইবাদত পালন করা।
📖 কুরআনের দলিল:
﴿وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلاً﴾
(সূরা আলে ইমরান, ৩:৯৭)
👉 “মানুষের উপর আল্লাহর হক হলো, যে কেউ সামর্থ্য রাখে সে যেন বায়তুল্লাহর হজ্জ করে।”
🔹 উমরাহ (العمرة)
উমরাহ শব্দের অর্থ – সফর করা, জিয়ারত করা।
শরীয়তের পরিভাষায়:
العمرة هي زيارة البيت الحرام لأداء مناسك مخصوصة في أي وقت.
অর্থাৎ— উমরাহ হলো বছরের যেকোনো সময় কা‘বাহ শরীফে গিয়ে বিশেষ কিছু ইবাদত পালন করা।
📖 হাদিসের দলিল:
রাসূল ﷺ বলেছেন:
«الْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا، وَالْحَجُّ الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلَّا الْجَنَّةُ»
(সহীহ বুখারী ১৭৭৩, সহীহ মুসলিম ১৩৪৯)
👉 “এক উমরাহ থেকে আরেক উমরাহ পর্যন্ত (মাঝের ছোটখাটো) গুনাহ মাফ হয়ে যায়। আর মাবরুর হজের বদলা শুধু জান্নাত।”
🌙 হজের প্রকারভেদ (কত প্রকার হজ আছে?)
হজ মোট ৩ প্রকার:
১. হজ্জে ইফরাদ (حجّ الإفراد)
👉 শুধু হজের নিয়ত করা। উমরাহ সাথে নেই।
-
ইহরাম বাঁধা: হজের জন্য
-
কাজ: শুধু হজের আমল করা (উমরাহ নেই)
২. হজ্জে কিরান (حجّ القِران)
👉 একই সাথে হজ ও উমরাহর নিয়ত করা।
-
ইহরাম বাঁধা: হজ + উমরাহ দুটোই একসাথে
-
কাজ: প্রথমে উমরাহর আমল, পরে হজের আমল।
-
এর জন্য দম (কুরবানি) ওয়াজিব হয়।
📖 হাদিসে এসেছে:
«دخلت العمرة في الحج إلى يوم القيامة»
(সুনান নাসায়ী ২৭৩৫)
👉 “কিয়ামত পর্যন্ত উমরাহ হজের সাথে মিলিত হয়েছে।”
৩. হজ্জে তামাত্তু (حجّ التمتع)
👉 উমরাহ আলাদা, পরে হজ আলাদা করা।
-
ইহরাম বাঁধা: প্রথমে উমরাহর জন্য, উমরাহ শেষ হলে ইহরাম খুলে ফেলা।
-
এরপর আবার যিলহজ্জে হজের ইহরাম বাঁধা।
-
এটাতেও দম (কুরবানি) ওয়াজিব হয়।
📖 কুরআনের দলিল:
﴿فَمَنْ تَمَتَّعَ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ﴾
(সূরা বাকারা ২:১৯৬)
👉 “যে উমরাহ করে পরে হজ পর্যন্ত অবস্থান করে, তবে তার জন্য সহজলভ্য হাদী (কুরবানি) রয়েছে।”
🌙 সংক্ষেপে পার্থক্য
| হজের ধরন | উমরাহ অন্তর্ভুক্ত? | কুরবানি (দম) ওয়াজিব? |
|---|---|---|
| ইফরাদ | ❌ না | ❌ না |
| কিরান | ✅ হ্যাঁ | ✅ হ্যাঁ |
| তামাত্তু | ✅ আলাদা করে | ✅ হ্যাঁ |
✅ উপসংহার
-
হজ হলো ইসলামের ৫ম স্তম্ভ, যিলহজ্জ মাসে নির্দিষ্ট আমল পালনের নাম।
-
উমরাহ হলো বছরের যেকোনো সময়ে মক্কা শরীফে বিশেষ আমল করা।
-
হজের ৩ ধরন আছে— ইফরাদ, কিরান, তামাত্তু।
-
ইফরাদে শুধু হজ, কিরানে হজ+উমরাহ একসাথে, আর তামাত্তুতে উমরাহ আলাদা, হজ আলাদা।
জি ভাই 🌸, এখন আমি হজ্জের আমলসমূহ (ধাপে ধাপে – প্রথম দিন থেকে শেষ পর্যন্ত) সাজিয়ে দিচ্ছি, ইনশাআল্লাহ। এভাবে পড়লে একজন হাজী পুরো হজ্জের কাঠামো পরিষ্কার বুঝতে পারবেন।
🕋 হজ্জের আমলসমূহ ধাপে ধাপে
🗓️ প্রথম দিন – ৮ই যিলহজ্জ (ইয়াওমুত তারওইয়াহ / يوم التروية)
-
ইহরাম বাঁধা – হজের নিয়তে।
-
নফল গোসল করে, ইহরামের কাপড় পরে হজের নিয়ত করা।
-
তালবিয়া পাঠ:
«لَبَّيْكَ اللّهُمَّ حَجًّا»
👉 অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি হজের জন্য হাজির।”
-
-
মিনা সফর – হাজিরা মিনা গিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ (যোহর, আসর, মাগরিব, এশা ও ৯ তারিখ ফজর) পড়বেন।
-
নামাজগুলো কসর হবে, তবে জামাতে পড়া উত্তম।
-
📖 হাদিস দলিল:
রাসূল ﷺ মিনা গিয়ে নামাজগুলো পড়েছিলেন।
(সহীহ বুখারী ১৬৫৯, সহীহ মুসলিম ১২১০)
🗓️ দ্বিতীয় দিন – ৯ই যিলহজ্জ (ইয়াওমে আরাফাহ / يوم عرفة)
-
ফজর নামাজ মিনায় আদায়।
-
সকাল বেলা আরাফাতের ময়দানে যাত্রা।
-
ওয়াকুফে আরাফাহ (অবস্থান):
-
যোহর ও আসরের নামাজ একসাথে পড়া হবে (জম’ করে, এক আযান দুই ইকামতে)।
-
এরপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতে অবস্থান, দোয়া, তাসবীহ, তাহলিল, কুরআন তিলাওয়াত ইত্যাদি করা।
-
📖 কুরআনের দলিল:
﴿فَإِذَا أَفَضْتُمْ مِنْ عَرَفَاتٍ فَاذْكُرُوا اللَّهَ عِندَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ﴾
(সূরা বাকারা ২:১৯৮)
📖 হাদিস:
রাসূল ﷺ বলেছেন:
«الحج عرفة»
(সুনান তিরমিজী ৮৯১)
👉 “হজ হলো আরাফাতের অবস্থান।”
-
সূর্যাস্তের পর আরাফা ছেড়ে মুযদালিফাহ-তে যাত্রা।
-
মুযদালিফাহ-তে মাগরিব ও এশার নামাজ একসাথে আদায় করা।
-
রাত মুযদালিফায় কাটানো এবং ফজর নামাজ পড়া।
🗓️ তৃতীয় দিন – ১০ই যিলহজ্জ (ইয়াওমুন নাহর / يوم النحر)
-
ফজর নামাজ মুযদালিফায় পড়ে সূর্য ওঠার আগে মিনা যাত্রা।
-
জামারাতে উকবা (বড় শয়তান) কে ৭টি পাথর মারা।
-
প্রত্যেকবার পাথর মারার সময় বলতে হবে:
«الله أكبر»
-
📖 হাদিস:
রাসূল ﷺ ৭টি কঙ্কর নিক্ষেপ করেছিলেন।
(সহীহ বুখারী ১৭৪৬, সহীহ মুসলিম ১২৯৭)
-
কুরবানী (হাদী/দম) করা।
-
হালক (মাথা মুন্ডানো) বা কসর (চুল ছোট করা)।
-
পুরুষদের জন্য মাথা মুন্ডানো উত্তম।
-
মহিলারা সামান্য চুল কেটে দিবে।
-
📖 হাদিস:
«اللهم اغفر للمحلّقين» (তিনবার বললেন)
«قالوا وللمقصرين يا رسول الله؟ قال وللمقصرين»
(সহীহ বুখারী ১৭২৭, সহীহ মুসলিম ১৩০১)
👉 রাসূল ﷺ মাথা মুন্ডানোদের জন্য তিনবার দোয়া করলেন, আর চুল ছোটকারীদের জন্য একবার।
-
তাওয়াফে জিয়ারাহ (طواف الإفاضة / طواف الزيارة) – কা‘বাহ শরীফে গিয়ে তাওয়াফ করা।
-
এরপর সাফা-মারওয়া সাঈ করা।
🗓️ চতুর্থ দিন – ১১ই যিলহজ্জ
-
মিনা অবস্থান।
-
তিনটি জামারাতে (ছোট, মাঝারি, বড় শয়তান) ৭টি করে কঙ্কর নিক্ষেপ।
-
প্রতিটি জামারা মারার পর কিবলামুখী হয়ে দোয়া করা (বড় জামারা ছাড়া)।
🗓️ পঞ্চম দিন – ১২ই যিলহজ্জ
-
আবার তিন জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ।
-
এরপর চাইলে মক্কায় ফিরে আসতে পারে।
📖 কুরআনের দলিল:
﴿فَمَنْ تَعَجَّلَ فِي يَوْمَيْنِ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ وَمَنْ تَأَخَّرَ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ﴾
(সূরা বাকারা ২:২০৩)
👉 “যে ব্যক্তি দুই দিনে তাড়াতাড়ি ফিরে যায় তার কোনো গুনাহ নেই, আর যে দেরি করে তারও কোনো গুনাহ নেই।”
🗓️ ষষ্ঠ দিন – ১৩ই যিলহজ্জ (যারা বিলম্ব করে থাকে তাদের জন্য)
-
আবার তিন জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ করতে হবে।
🕋 হজ সমাপ্তির সময় (তাওয়াফে বিদা / طواف الوداع)
-
হজ শেষে যখন হাজী নিজ শহরে ফেরার ইচ্ছা করবে, তখন তাওয়াফে বিদা করা ওয়াজিব।
-
এটাই শেষ তাওয়াফ।
📖 হাদিস:
«أُمِرَ الناس أن يكون آخر عهدهم بالبيت إلا أنه خفف عن الحائض»
(সহীহ বুখারী ১৭৫৫, সহীহ মুসলিম ১৩২৮)
👉 “মানুষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে তাদের শেষ কাজ হবে কা‘বাহ শরীফের তাওয়াফ, তবে হায়েজা মহিলাদের জন্য এ ব্যাপারে ছাড় দেওয়া হয়েছে।”
✅ উপসংহার
-
৮ যিলহজ্জ: ইহরাম, মিনা।
-
৯ যিলহজ্জ: আরাফা, মুযদালিফা।
-
১০ যিলহজ্জ: শয়তানকে পাথর, কুরবানি, মাথা মুন্ডানো, তাওয়াফে জিয়ারাহ + সাঈ।
-
১১-১৩ যিলহজ্জ: প্রতিদিন তিন জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ।
-
শেষে: তাওয়াফে বিদা।
আলহামদুলিল্লাহ 🤲 এখন আমি আপনাকে হজ্জের প্রতিটি ধাপে পড়ার দোয়া (আরবি + বাংলা উচ্চারণ + অর্থসহ) সাজিয়ে দিচ্ছি। এতে হজ্জে যাওয়া হাজীরা সহজেই মুখস্থ বা ব্যবহার করতে পারবেন।
🕋 হজ্জের আমল অনুযায়ী দোয়া সমূহ
🗓️ ১ম ধাপ: ইহরাম বাঁধার সময়
নিয়ত:
نويت الحج وأحرمت به لله تعالى
উচ্চারণ: নাওয়াইতু আল-হাজ্জা ওয়া আহরাম্তু বিহি লিল্লাহি তা‘আলা।
অর্থ: আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ্জের নিয়ত করলাম এবং ইহরামে প্রবেশ করলাম।
তালবিয়া (لبيك):
لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ
উচ্চারণ: লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারীকালাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নি‘মাতা লাকা ওয়ালমুল্ক, লা শারীকালাক।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি হাজির, আমি হাজির। আপনার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা, নিয়ামত ও রাজত্ব আপনারই। আপনার কোনো শরিক নেই।
🗓️ ২য় ধাপ: আরাফাতের ময়দানে অবস্থান (ওয়াকুফে আরাফাহ)
সর্বোত্তম দোয়া:
রাসূল ﷺ বলেছেন –
«خير الدعاء دعاء يوم عرفة» (তিরমিজী ৩৫৮৫)
👉 “আরাফার দিনের দোয়া সর্বোত্তম দোয়া।”
সবচেয়ে বেশি পড়তে হবে:
لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অহদাহু লা শারীকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু, ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বদীর।
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব ও প্রশংসা তাঁরই। তিনি সর্বশক্তিমান।
🗓️ ৩য় ধাপ: মুযদালিফায় দোয়া
ফজরের নামাজের পর কিবলামুখী হয়ে আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ ও দোয়া করতে হবে।
📖 আল্লাহ বলেন:
﴿فَاذْكُرُوا اللَّهَ عِندَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ﴾ (বাকারা ১৯৮)
👉 “মুযদালিফায় আল্লাহকে স্মরণ করো।”
দোয়া:
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফির লি, ওয়ারহামনি, ওয়াহদিনি, ওয়ারযুকনি।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, দয়া করুন, হেদায়েত দিন ও রিযিক দিন।
🗓️ ৪র্থ ধাপ: শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের সময়
প্রতিটি কঙ্কর ছোঁড়ার সময় বলতে হবে:
بِسْمِ اللَّهِ، اللَّهُ أَكْبَرُ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি, আল্লাহু আকবার।
অর্থ: আল্লাহর নামে, আল্লাহ মহান।
🗓️ ৫ম ধাপ: কুরবানীর সময়
بِسْمِ اللَّهِ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُمَّ تَقَبَّلْ مِنِّي
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা তাকাব্বাল মিন্নী।
অর্থ: আল্লাহর নামে, আল্লাহ মহান। হে আল্লাহ! আমার পক্ষ থেকে এটি কবুল করুন।
🗓️ ৬ষ্ঠ ধাপ: মাথা মুন্ডানো/চুল কাটা
চুল কাটার সময় বলা উত্তম:
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُحَلِّقِينَ
(সহীহ বুখারী ১৭২৭)
অর্থ: হে আল্লাহ! মাথা মুন্ডানোদের ক্ষমা করুন।
🗓️ ৭ম ধাপ: তাওয়াফ (طواف)
প্রথমে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ বা ইশারা করে বলবে:
بِسْمِ اللَّهِ، اللَّهُ أَكْبَرُ
তাওয়াফের মাঝে যে কোনো দোয়া পড়া যাবে।
কিন্তু রুকন ইয়ামানী থেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত রাসূল ﷺ পড়তেন:
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
(বাকারা ২০১)
উচ্চারণ: রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাতাওঁ, ওয়া ফিল-আখিরাতি হাসানাতাওঁ, ওয়াকিনা ‘আযাবান্নার।
অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদেরকে দুনিয়ায় কল্যাণ দিন, আখিরাতে কল্যাণ দিন এবং আমাদের জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন।
🗓️ ৮ম ধাপ: সাফা-মারওয়া সাঈ
সাফার উপরে দাঁড়িয়ে কিবলামুখী হয়ে তিনবার বলা:
إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ
(বাকারা ১৫৮)
তারপর দোয়া:
اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ...
👉 এ দোয়া ৩ বার পড়া, মাঝে মাঝে ব্যক্তিগত দোয়া করা।
🗓️ ৯ম ধাপ: তাওয়াফে বিদা (শেষ তাওয়াফ)
কা‘বার বিদায়ী তাওয়াফ শেষে দোয়া:
اللَّهُمَّ لَا تَجْعَلْ هَذَا آخِرَ عَهْدِي بِبَيْتِكَ الْحَرَامِ، وَإِنْ جَعَلْتَهُ آخِرَ عَهْدِي فَاجْعَلْنِي مَرْحُوماً مَغْفُوراً لَهُ
অর্থ: হে আল্লাহ! এটিকে আমার বায়তুল্লাহর সাথে শেষ সাক্ষাৎ বানাবেন না। যদি বানিয়েই দেন, তবে আমাকে রহমতপ্রাপ্ত ও ক্ষমাপ্রাপ্ত বানান।
✅ উপসংহার
-
ইহরামের সময়: নিয়ত + তালবিয়া।
-
আরাফাতে: বেশি বেশি দোয়া + লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।
-
মুযদালিফা: জিকির, দোয়া।
-
শয়তানকে পাথর মারতে: বিসমিল্লাহ, আল্লাহু আকবার।
-
কুরবানীতে: বিসমিল্লাহ, আল্লাহু আকবার, তাকাব্বাল মিন্নী।
-
তাওয়াফে: রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাহ।
-
সাফা-মারওয়ায়: ইননাস-সাফা ওয়ালমারওয়াতা... + তাকবীর ও দোয়া।
-
বিদায়ী তাওয়াফ: আল্লাহুম্মা লা তাজ‘আল হাযা আখিরা ‘আহদী...
